বাংলাদেশ

‘সমালোচনার সময় কয়েকজন ব্যক্তির নাম ঘুণাক্ষরেও আনা যায় না’

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২:১৮ অপরাহ্ণ
আইনজীবী শাহদীন মালিক
আইনজীবী শাহদীন মালিক
ফাইল ছবি

সমালোচনা করার সময় কয়েকজন ব্যক্তির নাম ঘুণাক্ষরেও আনা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, ওই সব নাম উচ্চারণ করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তখন দুইটা চয়েজ (পছন্দ) থাকে, হয় কেরানীগঞ্জ নয়তো কাশিমপুর কারাগার।
শনিবার দুপুরে ‘সংকটের মুখে বাক্‌স্বাধীনতা’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনারে) এই মন্তব্য করেন শাহদীন মালিক। এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে এখন শুধু সংখ্যা দিয়ে তা ‘জাস্টিফাই’ করা হয় বলে উল্লেখ করেন শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্যমন্ত্রী বা আগের তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবাদপত্র বলতেই একটা সংখ্যার দিক তুলে ধরেন। আমাদের এত এত পত্রিকা, দুই থেকে তিন ডজন টিভি আছে। কিন্তু সংখ্যা দিয়ে কখনো এটার মান প্রমাণিত হয় না।
বাক্‌স্বাধীনতা যত সীমাবদ্ধ হবে, দেশের লোকের ভালো হওয়া ততটা বিঘ্নিত বা দুষ্কর হবে বলেও মনে করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, এটা প্রমাণিত, বাক্‌স্বাধীনতা যত সীমিত হবে, দেশের উন্নয়ন তত সীমিত হবে এবং এটা একসময় বন্ধ হয়ে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক কাজী মাহফুজুল হক বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দিতে যেসব আইন হয়েছে, এসব আইন সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু ওই মত যদি পক্ষে যায় তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, সাইবার স্পেস (অনলাইন দুনিয়া) অনেক অনিরাপদ হয়ে গেছে। মেয়েরা সাইবার স্পেসে নিরাপদে থাকতে পারছে না। সাইবার অপরাধ বন্ধে পুলিশ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ না দিয়ে উল্টো কীভাবে মানুষের মুখ চেপে ধরা যায়, সেই কাজ হচ্ছে।
মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশ করে মামলার শিকার হয়েছেন ৬৪ জন। গ্রেপ্তার ও আটক হয়েছেন ৭৩ জন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আগে নিয়মিত ব্রিফিং হতো, সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল, প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেওয়া হলো। পরে ব্রিফিং বাদ দেওয়া হলো। তিনি বলেন, গুম, খুন, অপহরণ নিয়ে কথা বলার মতো একটি সময় তৈরি হয়েছে। মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার সময় এখন।

ওয়েবিনারের সঞ্চালক অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, অত্যাচার, গুম, বিচারবহির্ভূত বিভিন্ন শাস্তির মাধ্যমে বাক্‌স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হচ্ছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন থাকলেও হয়রানি করতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন।
যত বেশি বাক্‌স্বাধীনতা কমবে, তত বেশি গণতন্ত্রের গুণগত মান কমবে বলে মনে করেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান। তিনি বলেন, বাক্‌স্বাধীনতার সঙ্গে জনগণের ক্ষমতায়নের একটা সম্পর্ক আছে। কথা বলা মানেই ক্ষমতায়িত হওয়া।
সাংবাদিক সাখাওয়াত লিটন বলেন, যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তাঁদের বাক্‌স্বাধীনতা নিয়ে সমস্যা হয় না। যখন বিরোধী দলে যান, তখনই সমস্যায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, লিখতে গেলে ভাবেন, হয়রানির শিকার হতে হবে কি না, সেটিও এখন মানুষকে ভাবতে হয়। ভেবে মানুষ চুপ করে থাকেন।