রাজধানী

পথের ধারের খাবারের স্বাদে ‘ভাটা’

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ

পথের ধারের খাবারের দোকানে ভিড় করতেন শিক্ষার্থী ও ভোজনরসিক মধ্যবিত্তরা। করোনার কারণে অনেকেই ঘরবন্দী। ব্যবসাও লাটে উঠেছে।

‘লোক না থাকলে মাঠা কি মাথায় ঢালব!’ বলেই খটাশ করে লাইন কেটে দিলেন সাদেক। নিউ এলিফ্যান্ট রোডের ফুটপাতে মাঠাবিক্রেতা তিনি। কয়েক দিন ঘুরেও তাঁর দেখা পাচ্ছিলাম না। শেষমেশ ফোনে পাওয়া গেল। জানতে চাইলাম, এত ভালো মাঠা বানান আপনি, এখন বসছেন না কেন? তার উত্তরেই এই কথা বললেন সাদেক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মরিচের চা দারুণ জনপ্রিয়। জ্বাল দেওয়া চা–পাতার সঙ্গে তেঁতুলের ক্বাথ আর কাঁচা মরিচকুচি মিশিয়ে তৈরি হয় এই বিশেষ স্বাদের চা। ১০ টাকা গ্লাসের এই চায়ের মূল ক্রেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর শৌখিন মানুষেরা।

ধানমন্ডি ৫ নম্বরের চটপটি-ফুচকা, শিল্পকলার গেটে লুচি-পরোটা, নিউমার্কেটের ভেলপুরি, মিরপুরের খেতাপুরি, মোহাম্মদপুরের মোস্তাকিমের চাপ—নামগুলো ভোজনরসিকদের কাছে অতিপরিচিত। এগুলো সবই পথের ধারের খাবার (স্ট্রিট ফুড)।

ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা এসব দোকানে মূলত ভিড় করতেন শিক্ষার্থী ও ভোজনরসিক মধ্যবিত্ত লোকজন। করোনার কারণে যাঁরা অনেকেই ঘরবন্দী। ব্যবসাও তাই লাটে উঠেছে।

করোনাকালের গোড়ায় মার্চের মাঝামাঝিতে খাবারের এসব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এখন কিছু কিছু খুলতে শুরু করেছে। আবার কিছু দোকান বন্ধ হয়ে গেছে, কোনোটা হয়েছে হাতবদল। নতুন করে লড়াইয়ে নেমে অনেক দোকানিরই মনে হচ্ছে, তাঁরা ব্যবসা শুরুর সময়ে ফিরে গেছেন। তাঁদের কাছে অচেনা এই নতুন সময়।

এমন প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকান আছে, যেখানে করোনার আগে গড়ে পাঁচজন কাজ করতেন। এখন দুইজনকে রাখতে পারছেন। এসব দোকানের পুঁজিও কম। কারও ২০ হাজার, কারও ২ লাখ। গত চার-পাঁচ মাসে টুকটাক যাঁর যা জমানো টাকা ছিল, তা শেষ করে ফেলেছেন। পেটের দায়ে কাজে ফিরেছেন। তবে ব্যবসায় আগের সেই জৌলুশ নেই।

ভিড় নেই নাদিমের লুচি মাংসে

গরম গরম ফুলকো লুচির সঙ্গে কষা মাংস। পথের পাশে দাঁড়িয়ে এক হাতে প্লেট, আরেক হাতে লুচি-মাংস মুখে পোরা। সেই সঙ্গে দেশ-শিল্প-সংস্কৃতি আর সমাজ নিয়ে পাশের মানুষের সঙ্গে আড্ডা।

সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উত্তর গেটে এই দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। এদিকে শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের আনাগোনা বেশি। তাই মূল ক্রেতাও ছিলেন তাঁরা। বিকেল থেকে গমগম করতে থাকা এই এলাকাও এখন নীরব।

এক দশক ধরে জলখাবার হিসেবে নাদিমের এই লুচি-মাংস জনপ্রিয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে খাবারের পদও। ফিরনি, চপসহ কত কী! ক্রেতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দোকানের কর্মীও। করোনার আগে ছয়জন মিলে সামলেছেন ফুটপাতের এই দোকান।

আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কয়েক দফা ঘুরে দেখা যায়, দোকানে আগের ভিড় নেই। অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে নাদিম মাহমুদ বললেন, ‘ভাই, কী যে একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। দৈনিক ১৫ হাজার টাকার বেচাকেনা এখন পনেরো শ টাকায় নেমে গেছে।’

বুলেট শিঙাড়ায় ‘করোনা বুলেট’

রাজাবাজার আর ফার্মগেট এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে খাবারের ব্যবসা করছেন মো. রফিকুল। শুরু করেছিলেন শিঙাড়া আর গরম পেটিস দিয়ে। তবে তাঁর তৈরি ছোট আকারের ‘বুলেট শিঙাড়া’ বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। প্রতিটি শিঙাড়া দুই টাকা দামে বিক্রি করেন। মো. রফিকুল বললেন, ‘স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাই আমার শিঙাড়া বেশি খাইত। স্বাদ আলাদা করতে আমি কিছু বাড়তি মসলা দিতাম, যা সবাই পছন্দ করত।

আগে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকার শিঙাড়া বিক্রি হইত। এখন দিনে ৩০০ টাকাও হয় না।’ যেন করোনা বুলেট আঘাত করেছে রফিকুলের বুলেট শিঙাড়ায়।

সরোবরে সাবধানী ক্রেতারা

ধানমন্ডি লেকপাড়ের রবীন্দ্রসরোবর নামে পরিচিতি পাওয়া মুক্তমঞ্চের পাশ ঘিরে করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে ছোট–বড় সাতটা দোকান ছিল। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নানা বয়সের মানুষের ভিড় ছিল এই এলাকায়। গরুর দুধের চা, গরু ও মুরগির চাপ, ছোট লুচি, কাবাব—এসব খাবার এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। কয়েক দিন আগে গিয়ে দেখা গেল চায়ের দোকানটা উঠে গেছে। কাবাব, লুচি ও চাপ বিক্রি করে এমন চারটি দোকান এখন খুলেছে। তবে সবারই ব্যবসায় মন্দা। অনেক মানুষ বিকেলে বেড়াতে এলেও খেতে বসছেন কম।

এই এলাকায় জুসবার অ্যান্ড কাবাব নামের দোকান চালান দুই ভাই সোহেল রানা ও সাইফুল ইসলাম। সোহেল রানা বলেন, ‘টানা চার মাস বন্ধ ছিল দোকান। এখানে যে কজন কর্মী কাজ করতেন, তাঁদের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়ে করোনার কারণে। ঈদের আগে দোকানটা খুলে দেওয়ায় কয়েকজন কর্মীর অল্প কিছু বেতন দিতে পারছি।’

এই দোকানে করোনার আগে ১৫ জন কর্মী ছিলেন, এখন সংখ্যা কমে গেছে। সাইফুল ইসলাম জানালেন, আগের তুলনায় এখন ৩০ শতাংশও বেচাকেনা নেই।

এদিকটায় বেশ কড়াকড়ি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায়। দোকানের সামনের টেবিল–চেয়ার, তাই নিয়মিত স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। গ্লাভস, মাস্ক, দূরত্বের মতো স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকেই। যাঁরা এখানে খেতে আসেন, তাঁরাও বিষয়টা মেনে চলার চেষ্টা করেন। সন্ধ্যায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা মূল বেচাকেনা হয় এখানকার খাবারের দোকানগুলোতে।

বড় ধস ৫ নম্বরের চটপটিতে

ভ্যানগাড়ির চারদিকে কাচে ঘেরা। ওপরে মজবুত ছাউনি। একদিকে দরজার মতো করে অর্ধেক অংশ ফাঁকা। ভেতরে রাখা বুটের ডাল, ফুচকা, সেদ্ধ ডিম, সালাদকুচি আর নানা রকম মসলার বয়াম। ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কের কোনার এই দোকানের পরিচিতি আছে মজার চটপটি আর ফুচকা হিসেবে।

চটপটি আর ফুচকার দোকান ফাাঁকা।
চটপটি আর ফুচকার দোকান ফাাঁকা।
খালেদ সরকার

টক-মিষ্টি তেঁতুলজলে কড়া ঘ্রাণের মসলা, ডাল, ডিম আর মুচমুচে ফুচকা দিয়ে এখানে তৈরি হয় চটপটি। ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই দোকান চালাচ্ছেন মো. আবদুল লতিফ। তবে এমন মন্দা দেখেননি কখনো। করোনার কারণে ৫ মাস ১৬ দিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

মো. আবদুল লতিফ বললেন, ‘বিক্রি এত কইমা যাইবো, ভাবি নাই। লোকজন এখন বাইরে খাইতে ভয় পায়। অনেকে চটপটি বা ফুচকা কিনে বাসায় নিয়ে খাচ্ছেন।’

ভেলপুরির ভেলকি নেই

বড় টিনের সসপ্যানে ভরা ঘুগনির সঙ্গে ভাজা শুকনা মরিচের গুঁড়া আর কয়েক ধরনের মসলা, আর সালাদকুচি। ঢাকনার ওপরের পলিথিনের স্বচ্ছ প্যাকেটে ভরা ফুচকা। ঢাকা শহরের অনেক জায়গায় এই উপকরণে তৈরি হয় ভেলপুরি। তবে নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজের গেট, বেইলি রোড, বসুন্ধরা সিটির সামনে আর মিরপুর ১০ নম্বরের ভেলপুরির রয়েছে বিশেষ চাহিদা।

প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ভেলপুরি অনায়াসে বিক্রি করতেন নিউমার্কেট এলাকার এক বিক্রেতা। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আবার ফিরেছেন সেই পেশায়। তবে এখন ছুটির দিনগুলো ছাড়া ১০০ ভেলপুরি বিক্রি কঠিন হয়ে পড়ে তাঁর। আগে একটা নির্দিষ্ট স্থানে বিক্রি করলেও এখন তিনি সেই জায়গা পাচ্ছেন না।

পলাশীর জুসে মালিক বদল

তুলনামূলক কম টাকায় নানা রকম মৌসুমি ফলের জুস বিক্রি করে জনপ্রিয়তা পায় পলাশী মোড়ের ছায়েদ পলাশী জুস কর্নার। বিশেষ করে এখানকার কালোজাম, পেঁপে, কাঁচা আম ও আমলকীর জুস খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। বছর দুই আগে ফুটপাত থেকে বুয়েটের কাঁচাবাজারের নতুন মার্কেটের ভেতরে বসে দোকানটি। ঘর ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছিলেন ছায়েদ। করোনার পর ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সচল হয়েছে দোকানের জুসারগুলো। দোকান সচল হলেও মালিক বদল হয়েছে। দোকানঘরের মালিক ইকবাল হোসেন নিজস্ব পরিচালনায় এটি চালু করেছেন। দোকানের মূল ক্রেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ইডেন কলেজসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জুসের ব্যবসাও ভালো নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাঁচাকলার ভর্তা বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এখন দোকানে তেমন ভিড় নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাঁচাকলার ভর্তা বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এখন দোকানে তেমন ভিড় নেই।
ছবি: খালেদ সরকার

ক্রেতা নেই কাঁচকলাভর্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্রি হয় কাঁচকলার ভর্তা। স্বাদে নতুন হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয় এই ভর্তা। কলা ভবনের পাশে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবনের গেটে, মসজিদের সামনের সড়কে, টিএসসি বা বিভিন্ন হলের গেটে ভ্যানের দোকানে বিক্রি হয় এই ভর্তা।

গ্রন্থাগারের সামনে কলাভর্তার দোকান চালান সোহেল। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে দোকান বন্ধ করে সোহেল ফিরে গিয়েছিলেন ভোলায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সেখানে সময় কেটেছে শুয়েবসে। আর্থিক টানাপোড়েনে গত মাসের মাঝামাঝি ফিরে আসেন ঢাকায়। তবে বিক্রি হচ্ছে না তাঁর কলাভর্তাও। সোহেল বললেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে কত দিন ঢাকায় টিকে থাকব জানি না।’

টিএসসির চায়ের চুলা জ্বলে না

আগে ফুটপাতে চা মানেই ছিল রং–চা অথবা দুধ–চা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে যাঁরা আসেন, তাঁরা জানেন চায়ের প্রকার কত। কাঁচা মরিচের চা থেকে শুরু করে অপরাজিতা ফুলের চা, কমলা–চা, মাল্টা–চা, লেবু–চা, মালটোভাসহ কত কী মেশানো চা! আগে এখানে ১৫টির মতো দোকানে সারা বেলায় ফুটত গরম পানি। এখন সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। অল্পবিস্তর মানুষ টিএসসিতে আসছে এখন। তাই কিছু দোকান চালু হয়েছে। বাকি দোকানের চার কোনা বাক্সে তালা মারা এখনো। ধুলার আস্তর পড়ে আছে তাতে।

৩০ আগস্ট, ২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি দোকান খুলেছে।

একনামে এখানে পরিচিত ‘স্বপন মামা’ এখনো তাঁর দোকান খোলেননি। এখানে আরেকটি দোকানের পরিচিত মুখ কণা ও শাহবুদ্দিন। ভাইবোনের এই চায়ের দোকান খুলেছে আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে। তবে বেচাকেনা তেমন নেই। শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘অসুস্থ মাসহ পাঁচ ভাইবোন মিলে থাকি ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের একটি বাসায়।

এখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে এই এলাকায় দোকানদারি করতে করতে বেড়ে উঠেছি। তাই অন্য কাজেও যেতে পারি না। দোকান খুললেও ব্যবসা নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চায়ের দোকান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চায়ের দোকান
ছবি: খালেদ সরকার

অফিসপাড়ায় অভ্যাস বদল

অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত রাজধানীর মতিঝিল এলাকা। করোনাকালের আগে এদিকে ডেকচিতে ভরা ডিম-খিচুড়ি, নানা রকম চপ, ছোলা–মুড়িমাখা, দই–চিড়া বা তেহারির মতো খাবার মানুষ ফুটপাতে দাঁড়িয়েই খেত। এখন সেটা কমে গেছে।

লোকজনও নামছে কম, দোকানও বসেছে অল্প। ২ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঘুরে দেখা গেল, খাবারের বদলে সবজি, মসলা, ঘানিভাঙা তেলের অস্থায়ী দোকান চলছে সেখানে।
এই এলাকায় অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। করোনার সময় বেশ কিছু অফিস সচল ছিল। তবে দুপুরে ফুটপাতের বদলে বাড়ি থেকে আনা খাবার খাচ্ছেন অনেকে। এখনো সে ধারা চলছে।

দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার একটি তেহারির দোকানের মালিক মো. আল আমিন বলেন, ‘মানুষ এখন বাইরে খাইতে চায় না। অফিস করে যারা, তারা দুপুরের খাবার এখন বাসা থেকে নিয়ে আসে।’ করোনার আগে দুপুরে দুই-তিন ডেকচি (বড় হাঁড়ি) তেহারি বিক্রি হলেও এখন এক ডেকচিও চলে না আল আমিনের। কেউ আবার ব্যবসা বদল করে হয়েছেন সবজি বিক্রেতা।

কেউ ফিরবেন না, কেউ ফেরার অপেক্ষায়

রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকার জনপ্রিয় খাবারের খোঁজে এই প্রতিবেদক ঘুরেছেন শ্যামলী, শিয়া মসজিদ এলাকা, মোহাম্মদপুর টাউন হল, তেজগাঁওসহ বেশ কিছু জায়গায়। তবে সেসব এলাকার অনেক দোকান এখনো বসেনি। আশপাশে খোঁজ নিয়ে কারও কারও তথ্য মিলল। কেউ বললেন, গ্রামে ফিরে অন্য কাজ করছেন, কেউ দোকান দিয়েছেন অন্য কিছুর। মিরপুর ১ নম্বরের জনপ্রিয় খেতাপুরির দোকানও খুলেছে সম্প্রতি।

মোহাম্মদপুরের এলাচি–চা বিক্রেতা নেত্রকোনায় ফিরে স্থানীয় বাজারে ছোট্ট দোকান দিয়েছেন। রিং রোডের খুদে ভাত-ভর্তার দোকানি এখন ব্যবসা বদলে হয়েছেন সবজি বিক্রেতা। মতিঝিলের আলুপুরি বিক্রেতা রাব্বি এখন ফলমূলের ব্যবসা শুরু করেছেন।

করোনায় প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও অনেকে চেষ্টা করছেন ঘুরে দাঁড়ানোর।

তবে নতুন স্বাভাবিক এই সময়ে মানুষ কি আর আগের মতো রাস্তার ধারের খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারবে? স্বাস্থ্যবিধি, সুরক্ষা-করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক কি তাঁদের রসনা–রাশ টেনে ধরবে না! ফুটপাতে এখনো শ্রমজীবীদের খাবারের দোকানগুলো চলছে দেদার। দুপুর হলেই রিকশা ঠেকিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যে চালক আগে ৩০ টাকায় ভাত-ডিম-ডাল খেতেন, তাঁরা এখনো খাচ্ছেন। তবে মধ্যবিত্তরা পড়েছেন দোটানায়। অফিস যাওয়া লোকটিও বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসছেন।

প্রয়োজন ছাড়া দাঁড়াচ্ছেন না লোভনীয় চাপ, লুচি বা চটপটির দোকানের সামনে।

ধানমন্ডিতে ২৫ বছরের চটপটি বিক্রেতা তাই আজ চিন্তিত কীভাবে চলবে তাঁর জীবন, তাঁর সংসার?