করোনাভাইরাস

দেশে সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়াল

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২০, ৫:২০ অপরাহ্ণ
করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস
প্রতীকী ছবি

দেশে করোনা রোগীদের সুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন লাখের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। শনাক্তের বিপরীতে সুস্থতার হার ৭৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৮ জনই সুস্থ হয়ে গেছেন। এই তথ্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত  দেশে মোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫০৯ জন সুস্থ হয়েছে। সর্বমোট সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৭৩৮ জন।

গত মার্চে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে দেশে সুস্থতার হার বেশ কম ছিল। গত ২ মে পর্যন্ত সুস্থতার হার ছিল ২ শতাংশ। তখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের ২৪ ঘণ্টায় পরপর দুটি পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করা হতো। দুটি পরীক্ষাতেই করোনা নেগেটিভ এলে রোগীকে সুস্থ বলা হতো এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতো।

তবে ৩ মে থেকে সুস্থতার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর । তাতে বলা হয়, ওষুধ ছাড়া টানা তিন দিন জ্বর না থাকলে, কাশি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে। এই পরিবর্তন আনার পর থেকে মূলত দেশে সুস্থতার হার বাড়তে থাকে।

সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়াদের বাদ দিলে দেশে এখন চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ৭৯ হাজার ৭২৫ জন। শুরু থেকে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলের করোনাভাইরাস সংক্রমণের হালনাগাদ তথ্য রাখছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস নামের একটি ওয়েবসাইট। তাদের হিসাবে, এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন (অ্যাকটিভ কেস) রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। এই তালিকায় প্রথম স্থানে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে ভারত।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের বয়স বেশি এবং একই সঙ্গে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, কোভিড-১৯ এ তাঁদের ঝুঁকিটা বেশি। যাঁদের লক্ষণ মৃদু এবং অন্যান্য রোগ নেই, তাঁদের সবার সুস্থ হওয়ার কথা। আবার বয়স বেশি হলেও অন্যান্য রোগ কম থাকা ব্যক্তিদের অনেকে বাসায় থেকেও সুস্থ হচ্ছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চীনের সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের যৌথ মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, মৃদু সংক্রমণের (মাইল্ড কেস) ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। আর যেসব রোগীর অবস্থা জটিল বা অন্য সংকটাপন্ন রোগ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সুস্থ হতে সময় লাগে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ।

তবে করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও অনেকে নানা জটিলতায় ভুগছেন। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-উত্তর সেবা চালু করা হয়েছে। এই সেবা নেওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন করা এবং অন্তত দেশের সব বড় শহরে এই সেবা চালু করা দরকার বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

মুশতাক হোসেন বলেন, অনেকে ঘুমাতে পারছেন না, কারও কারও হার্টের সমস্যা বাড়ছে, অনেকে করোনামুক্ত হওয়ার পরও আতঙ্কে থাকছেন, অনেকের স্নায়বিক সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো দেখতে হবে। সংক্রমণের ফলে রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি হচ্ছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

সংক্রমণ বেশি এমন দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। দেশে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।ওয়ার্ল্ডোমিটারসের শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশে তিন লক্ষাধিক কোভিড-১৯ শনাক্ত রোগী রয়েছে। আক্রান্তের এই শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে মৃত্যুহার কম শুধু ইসরায়েলে।

তবে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার দিক থেকে এখনো অনেকটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন প্রতি ১০ লাখে ১২ হাজার ৯৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তিন লক্ষাধিক রোগী রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে যা সর্বনিম্ন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সর্বনিম্ন এই স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মেক্সিকোর লড়াই চলেছে। কিন্তু দেশে পরীক্ষার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশ মেক্সিকোর চেয়েও অনেকটা পিছিয়ে। মেক্সিকোতে এখন প্রতি ১০ লাখে ১৬ হাজার ৫৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।