অর্থনীতি

গত বছর বড় মার খেলাম, এ বছরও সেদিকে যাচ্ছে

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২১, ৮:০ পূর্বাহ্ণ
মহসিন আলী
মহসিন আলী

গত বছরের ধাক্কা সামলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করেছিলেন চট্টগ্রামের টেরিবাজারের টি ব্রাদার্সের কর্ণধার মহসিন আলী। পাইকারি থান কাপড়ের ব্যবসা তাঁর। রোজার সময়টাই তাঁর ব্যবসার ভরা মৌসুম। এ কারণে বাজার ধরতে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ও বাকিতে কাপড় কিনেছেন। আশা ছিল, গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার। কিন্তু মহসিন আলীর আশাকে আবার অনিশ্চয়তায় ভাসাল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

মহসিন আলী জানান, নতুন করে যে আবার বিধিনিষেধ আসতে পারে, তা আমাদের ভাবনায় ছিল না। এমনকি এ ধরনের বিধিনিষেধের বিষয়ে খুব একটা আলোচনাও ছিল না। তাই মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ধারদেনা করে কাপড় তুলেছি। শবে বরাতের পর আস্তে আস্তে বেচাকেনাও জমতে শুরু করেছিল। এমন সময়ই সরকার করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। আর তাতেই ব্যবসার ভর মৌসুমে আমাদের বাসায় বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। সঙ্গে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। কীভাবে ব্যবসার খরচ মেটাব, আবার সংসারই চলবে কী করে?

মহসিন আলী বলেন, আমার মতো ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের ঋণ পান না। তাই আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ব্যবসা করতে হয়। গত বছর ব্যবসায়িক ক্ষতি পোষাতে সরকার প্রণোদনা দিলেও আমাদের পর্যন্ত তা পৌঁছায়নি। অথচ কোনো খরচই আমাদের থেমে নেই। প্রতি মাসে দোকান ভাড়া, গুদাম ভাড়া ও কর্মীর বেতন বাবদ ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। সঙ্গে সংসার খরচ। যত দিন যাচ্ছে, খরচ শুধু বাড়ছেই।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নিচেই মহসিনের থান কাপড়ের পাইকারি দোকান। তিনি মূলত ঢাকার সদরঘাট ও ইসলামপুর থেকে কাপড় কিনে তা শহর ও উপজেলা পর্যায়ের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। সাত বছর আগে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামেন তিনি। গত বছরও ব্যবসার ভরা মৌসুমে করোনার জন্য বড় ধাক্কা খান। রোজার বাজার ধরতে পারেননি। পরে ছাড় দিয়ে কাপড় বিক্রি করতে হয়েছে। তাতে বড় ধরনের লোকসানও গুনতে হয়েছিল। মহসিন জানান, লোকসানের কারণে যাঁদের কাছ থেকে কাপড় কিনি, তাঁদের পাওনা শোধ করতে পারিনি। আবার আমি যাঁদের কাছে পণ্য বিক্রি করেছি, তাঁদের কাছ থেকেও টাকা পাইনি। ফলে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় উভয় সংকটে। আমাদের এ ব্যবসা মূলত বছরে এক মাসের। রোজার সময় ভালো ব্যবসা করতে পারলে অন্য সময় দুশ্চিন্তা কম থাকে। সেই ব্যবসায় গত বছর বড় মার খেলাম, এ বছরও সেদিকে যাচ্ছে।