অর্থনীতি

ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানি করা যাবে, তবে...

প্রকাশ: ২৩ েব্রুয়ারি ২০২১, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানি
করা যাবে, তবে...

বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানি করা যাবে, তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত বা আমদানি করা ভোজ্যতেলে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন থাকতে হবে—এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত অথবা আমদানি করা ভোজ্যতেলে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হলে তা ভারতে রপ্তানি করতে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিএসটিআইর সনদ যেন ভারতে গ্রহণযোগ্য হয়, সেটি নিয়ে ভারত সরকার কাজ করছে। আশা করছি, শিগগিরই এই বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এসব কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। আজ মঙ্গলবার ডিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও ডিসিসিআইর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ও ডিসিসিআইর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা
সমুদ্রপথে ঢাকা থেকে দিল্লিতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়
বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, হাইকমিশনার, ভারত

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতি টন পাটজাতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১ দশমিক ৭২ মার্কিন ডলারের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এতে করে ভারতের বাজারে আমাদের পাটের রপ্তানি কমে এসেছে। এ অবস্থা নিরসনে দ্রুততার সঙ্গে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি।’

রিজওয়ান রাহমান বলেন, ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহনের খরচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। এটি উভয় দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেন তিনি।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, সমুদ্রপথে ঢাকা হতে দিল্লিতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খরচ কমিয়ে আনতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতি টন পাটজাতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১ দশমিক ৭২ মার্কিন ডলারের অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এতে করে ভারতের বাজারে আমাদের পাটের রপ্তানি কমে এসেছে।
রিজওয়ান রাহমান, সভাপতি, ডিসিসিআই

বেনাপোল, পেট্রাপোলসহ বাংলাদেশের সব স্থলবন্দর সমূহের ভৌত অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, এই ধরনের সেবার অনুপস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতার ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া পণ্য ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিরাজগঞ্জে রেলওয়ের একটি কনটেইনার ডিপো স্থাপনেরও প্রস্তাব করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর ব্যবহারে ভারত খুব আগ্রহী। এ জন্য নৌপথের বেশ কিছু জায়গা নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং করা জরুরি। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন।