বিজ্ঞান

করোনা হলে অনেকে ঘ্রাণশক্তি হারান কেন?

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬:৫ অপরাহ্ণ
করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে কোনো ব্যক্তি হয়তো হঠাৎ লক্ষ করেন যে তিনি খাবার খাচ্ছেন কিন্তু স্বাদ–গন্ধ পাচ্ছেন না। ঘ্রাণশক্তি হারানো বা অ্যানোসমিয়া (Anosmia) করোনার একটি লক্ষণ। তবে এটি সবার হয় না। কিন্তু কারও হলে বুঝতে হবে, ভাইরাস তার নাকের গন্ধ–অনুভূতির প্রক্রিয়া সাময়িক সময়ের জন্য হলেও অকার্যকর করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্মিথসোনিয়ানম্যাগ ডটকমে ২১ সেপ্টেম্বর একটি বড় নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন ও কীভাবে করোনা রোগীদের অনেকে অ্যানোসমিয়ায় আক্রান্ত হন। করোনা–অ্যানোসমিয়া নিয়ে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিশেষজ্ঞদেরও বেশ কিছু গবেষণা আছে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস (Science Advances) জার্নালে গত ২৪ জুলাই একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

আমাদের নাকের ভেতর ঘ্রাণসংক্রান্ত নিউরনগুলো বা ওলফ্যাক্টরি নিউরন (olfactory neuron) গন্ধ–অনুভূতির সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায়। এর ফলে আমরা বিভিন্ন ধরনের গন্ধ অনুভব করি। কিন্তু করোনা অনেক সময় এই নিউরনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনাব্যবস্থার ক্ষতি সাধন করে। এ অবস্থায় রোগী ঘ্রাণশক্তি হারাতে পারেন।

এখানে বলা দরকার যে করোনাভাইরাস সরাসরি নিউরন ধ্বংস করে না। কিন্তু এর কাজ চালানোর জন্য সহায়ক সেলগুলোর ক্ষতি সাধন করে। তাই গবেষকেরা মনে করেন, করোনা রোগী কখনো ঘ্রাণশক্তি হারালেও সেটি স্থায়ী কোনো ব্যাপার নয়। কারণ, নিউরনগুলো তো ধ্বংস হয় না। তাই করোনার উপশম হলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত ওলফ্যাক্টরি নিউরাল সার্কিট আবার সক্রিয় অবস্থানে ফিরে আসে। তবে এ জন্য বেশ সময় লাগে। কারও হয়তো মাসখানেক বা কারও বছর দুয়েকও লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ বিষয়ে আরও গবেষণা চলছে।
তরুণ–যুবকেরা কেন বেশি হারে আক্রান্ত হচ্ছেন

করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার শুরুতে আমরা শুনেছি, শিশু ও কম বয়সী ব্যক্তিদের ঝুঁকি কম। বয়স্ক ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ২০–৪০ বছর বয়সের তরুণ–যুবারাও বেশ আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেছে, এই বয়সের অনেকে আগের চেয়ে বেশি হারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিজি কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) এই তথ্য জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকা ২৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কেন এ রকম হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সিডিসির একটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। সিডিসি বলছে উঠতি বয়সের তরুণ–যুবাদের অনেকে রেস্টুরেন্ট, দোকান, শিশুযত্নকেন্দ্র বা এ ধরনের কর্মস্থলে বেশি কাজ করেন। তাঁদের অনেক বেশি লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে ও কাজ করতে হয়। আর অন্যদিকে এই বয়সের তরুণ–যুবারা সাধারণত মাস্ক পরতে চান না। তাঁরা নির্বিকারভাবে জনবহুল স্থানে বেশি ঘুরে বেড়ান। ফলে তাঁদের মধ্যে সংক্রমণের হার বাড়ছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের একটি প্রবণতা দেখতে পাই। এ বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।
স্কুল খুলে দিলে কী অবস্থা হতে পারে?

সম্প্রতি স্কুলগুলো খোলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। অনেক অভিভাবক চিন্তিত। কারণ, শিশু–কিশোরদের ধর্মই হলো দুরন্তপনা। স্কুল খুললে তারা বন্ধুদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করবে। অনেকে মাস্ক ব্যবহার করবে না। অনেকের মাস্ক কেনার সামর্থ্যও হয়তো নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধুদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখা ও বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার নিয়মও তাদের মেনে চলার ধৈর্য হয়তো থাকবে না। তার মানে দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওদিকে শীত আসছে। করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা বলছেন। অন্য কয়েকটি দেশে দেখা গেছে স্কুল খোলার পর করোনার প্রকোপ বেড়েছে। তাই আবার স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে।
স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসব বিষয় আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। আবার এটাও ঠিক যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে বিটিভি ও অন্যান্য টিভি চ্যানেলে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা সবার কাছে নিয়ে যাওয়ার যে উদ্যোগ রয়েছে, তা সব শিক্ষার্থীর জন্য সহজলভ্য করলে হয়তো পড়াশোনায় ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আব্দুল কাইুয়ম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক
quayum.abdul@prothomalo.com