প্র অধুনা

যোগে সুস্থ হবু মায়ের শরীর-মন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ

গর্ভধারণ থেকে বাচ্চার জন্ম দেওয়া পর্যন্ত হবু মাকে যেতে হয় নানা রকম কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে। শুধু নিজের সুস্থতার কথা নয়, ভাবতে হয় অনাগত সন্তানকে নিয়েও। যে কারণে হবু মায়ের শরীর ও মন—দুটোতেই প্রভাব পড়ে। এ সময় হবু মায়েদের শরীর ও মনে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। এ সময় যেসব সমস্যা সচরাচর হয়ে থাকে, তার মধ্যে আছে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি, বিষণ্নতা, মানসিক চাপ, মৃত্যুচিন্তা, অনাগত সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা, আবেগের পরিবর্তনসহ নানা দুশ্চিন্তা। এসব কারণেই গর্ভধারণের শুরু থেকে হালকা ধরনের কিছু যোগাসন, প্রাণায়াম ও ধ্যান করা উচিত।

যোগাসনের আগে জেনে নিন

যোগব্যায়াম বা ইয়োগা যেহেতু একাধারে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য কাজ করে, তাই গর্ভাবস্থায় মায়েদের জন্য এ ব্যায়াম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। তবে পেটে চাপ লাগে, এমন কোনো আসন বা প্রাণায়াম করা এ সময় সম্পূর্ণ নিষেধ। গর্ভধারণের শুরু থেকেই যোগচর্চা করা যায়। তবে কারও যদি আগে গর্ভপাত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে প্রথম ৯০ দিন পার হওয়ার পর যোগব্যায়াম করতে পারেন। স্বাভাবিক প্রসব হলে তিন মাস পর আর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হলে সন্তানজন্মের ছয় মাস পর আবার যোগব্যায়াম করুন। কারণ, গর্ভধারণের সময়ের মতো সন্তান জন্মদানের পরবর্তী সময়ও মায়েদের জন্য যোগব্যায়াম জরুরি। গর্ভাবস্থায় করা যায়, এমন কিছু যোগাসনের কৌশল থাকছে এখানে।

ভ্রমরী প্রাণায়াম

মা ও অনাগত সন্তানের মানসিক স্বাস্থের জন্য ভ্রমরী প্রাণায়াম খুবই উপকারী।

যেভাবে করবেন: যেকোনো আসনে সোজা হয়ে বসুন। দুই হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে দুই কানের ছিদ্র বন্ধ করুন এবং বাকি চারটি আঙুল বাঁকা করে এমনভাবে চোখের পাতার ওপর রাখুন, যাতে চোখের পাতায় আঙুলের চাপ না লাগে। কান ও চোখ বন্ধ করার কারণ হচ্ছে বাইরের শব্দ ও আলোর দিকে আমাদের মনোযোগ যেন না যায়। এমনিতেও চোখের পাতা বন্ধ রাখবেন। নাক দিয়ে ফুসফুস ভরে শ্বাস টেনে নিন এবং নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ার সময় ভ্রমরের মতো একটানা গান বা শব্দ করতে থাকুন। শব্দ বা গান করার সময় মনোযোগ ভ্রুর মাঝখানে রাখবেন। ঘুমানোর আগে ১১-২১ বার করুন।

উপকারিতা: মানসিক চাপ কমায়। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে। মানসিক শান্তি আসে।

অনুলোম বিলোম
অনুলোম বিলোম
ছবি: খালেদ সরকার

অনুলোম বিলোম

শ্বাসপ্রশ্বাসের এই ব্যায়ামের (প্রাণায়ামের) মাধ্যমে স্নায়ু পরিশুদ্ধ হয়। এ জন্য মা ও শিশুর শরীর–স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে অনুলোম-বিলোমের তুলনা হয় না।

যেভাবে করবেন: যেকোনো আসনে বসুন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। চাইলে চেয়ারে বসেও করতে পারবেন। বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর ধ্যান বা বায়ু মুদ্রাতে রাখতে পারেন। কোলের ওপর বিশ্রাম অবস্থায়ও রাখতে পারেন। ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে নাকের ডান ছিদ্র বন্ধ করে বাঁ ছিদ্র দিয়ে শ্বাস টেনে ফুসফুস ভরে ফেলুন। এরপর মধ্যমা ও অনামিকার সাহায্যে বাঁ ছিদ্র বন্ধ করে ডান ছিদ্র দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। আবার ডান ছিদ্র দিয়েই শ্বাস টেনে নিন। এরপর আঙুল পরিবর্তন করে বুড়ো আঙুল দিয়ে নাকের ডান ছিদ্র বন্ধ করে বাঁ ছিদ্র দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। আবার ছিদ্র দিয়ে শ্বাস টেনে নিন।