গোল্লাছুট

‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ এল কোথা থেকে

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলা ভাষায় যে বাগ্‌ধারাগুলো আছে, সেগুলো এল কোথা থেকে?

‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ এল কোথা থেকে

লঙ্কাকাণ্ড

‘রামায়ণে’ আছে রাম আর রাবণের যুদ্ধের কাহিনি। এই বইয়ের মোট সাতটি ভাগ; যার মধ্যে ষষ্ঠ ভাগের নাম লঙ্কাকাণ্ড। রাম-রাবণের যুদ্ধ হয় লঙ্কা দ্বীপে। লঙ্কা হলো আজকের শ্রীলঙ্কা—ভারতের দক্ষিণে অবস্থিত। লঙ্কার রাজা ছিলেন রাবণ। তিনি সীতাকে বন্দী করে রেখেছিলেন। স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করার জন্য রাম আক্রমণ করেছিলেন লঙ্কায়। দুই পক্ষের যুদ্ধে সাজানো লঙ্কা নগরী তছনছ হয়ে যায়। একইভাবে এখন কোথাও হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটলে কিংবা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে বলে লঙ্কাকাণ্ড বেধেছে।

কুম্ভকর্ণের ঘুম

কুম্ভকর্ণ এক রাক্ষস। সম্পর্কে রাবণের মেজ ভাই। কুম্ভ মানে কলসি; আর কর্ণ মানে কান। কলসির মতো বিশাল কান ছিল বলে তার নাম কুম্ভকর্ণ। এত বড় কান থাকলে কী হবে, কেউ ডেকেও তার ঘুম ভাঙাতে পারত না। একটানা ছয় মাস ঘুমিয়ে তারপর উঠত। উঠেই হাজার হাজার মানুষ ও পশু খেয়ে ফেলত। বিশাল তার দেহ, প্রচণ্ড তার শক্তি। এক দিনের জন্য জেগে আবার ছয় মাসের জন্য ঘুমিয়ে পড়ত। যখন কোনো কাজে কাউকে

ডেকেও সাড়া পাওয়া যায় না, তখন বলা হয় কুম্ভকর্ণের ঘুম।

ঘরের শত্রু বিভীষণ

বিভীষণ ছিলেন রাবণের ছোট ভাই। রাম আর রাবণের যুদ্ধে তিনি রামের পক্ষ নিয়েছিলেন। বিভীষণের মনে হয়েছে, সীতাকে বন্দী করে তাঁর ভাই রাবণ ভুল করেছেন। তাই ভাইকে ছেড়ে বিরুদ্ধ পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।

এর মানে, বিভীষণ নিজের পরিবারের সঙ্গে

শত্রুর মতোই আচরণ করেছিলেন।

আজকের দিনে নিজের দলের কেউ অন্য দলের হয়ে কাজ করলে কিংবা পরিবারের কেউ অন্য পক্ষের হয়ে কথা বললে, এই বাগ্‌ধারার

প্রয়োগ করা হয়।