প্র ছুটির দিনে

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে এক ঘণ্টা

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ

৬ অক্টোবর ছিল আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এক ঘণ্টার জন্য বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের প্রতীকী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমাকে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রতীকী এ উদ্যোগ নিয়েছিল বেসরকারি সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল। তবে বিশেষ খবরটি আমাকে জানানো হয় সপ্তাহখানেক আগে। তখন থেকেই নিজের মধ্যে একটা আনন্দের অনুভূতি যেমন কাজ করছিল, আবার কিছুটা ভয়ও লাগছিল। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি পারব।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকারের হাত থেকে প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ করছেন রাইমু জামান
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকারের হাত থেকে প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ করছেন রাইমু জামান
সংগৃহীত

সেদিন সকালে মায়ের সঙ্গে বরগুনা থেকে বরিশালের যাই। বেলা তিনটার মধ্যেই বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে পৌঁছাই। সঙ্গে মা, এক ফুফু আর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সেখানে আগে থেকেই ছিল আনুষ্ঠানিকতা। হল রুমে বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অপেক্ষা করছিলেন। তখন বিভাগীয় কমিশনার অন্য একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলেন। পৌনে চারটার দিকে তিনি অফিসে ফিরলেন। এরপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর অফিস কক্ষে। সেখানে শুরু হয় দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা। বিভাগীয় কমিশনার আমাকে তাঁর পাশের একটি চেয়ারে বসান। তিনি আমাকে অভয় দেন, এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগান। সেখানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারসহ অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেল চারটায় দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি। এরপর ফুল দিয়ে আমাকে বরণ করেন তাঁরা।

এরপর মিলনায়তনে পূর্বনির্ধারিত সভায় যোগ দিই। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীরা যোগ দেন। সভায় অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন ছয় জেলার জেলা প্রশাসক। সভায় আমাকে প্রতীকী বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আমাকে সমাপনী বক্তৃতা দিতে বলা হলো। তখন নিজের ভেতরে একধরনের ভয় কাজ করছিল। কী বলব। আমি কী বলতে পারব। আবার নিজে নিজেই সাহস সঞ্চয় করলাম। শুরু করলাম। আমার কথা বললাম।

এমন একসময় এই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জিত হলো, যখন নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো ঘটনায় সারা দেশ প্রতিবাদমুখর। আমি একজন কন্যা হিসেবে এ দেশের লাখো কিশোরীর মতো স্বপ্ন দেখি একটি সুস্থ, নিরাপদ পরিবেশ এবং সমাজ। যেখানে হাজারো স্বপ্ন বুকে নিয়ে কোনো কিশোরীকে ধর্ষণের শিকার হতে হবে না।

প্রতীকী দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও আমি এসব সুপারিশ করেছি। আমি বলেছি, বরিশাল বিভাগের সব কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সম্মান সুরক্ষায় বিভাগের সব জেলায় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে জেলাভিত্তিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কন্যাশিশু নিরাপত্তা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করার। একটি ধর্ষণমুক্ত, ইভ টিজিংমুক্ত বরিশাল বিভাগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সেটা হবে সমগ্র দেশের জন্য রোল মডেল।

সেদিন বিকেল পাঁচটা অবধি আমি বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে প্রতীকী দায়িত্ব পালনের পর পুনরায় আমার দায়িত্ব হস্তান্তর করি। এই এক ঘণ্টা এক অন্য রকম অনুভূতি ছিল; যা আমাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি জোগাবে।