দূর পরবাস

অস্ট্রেলিয়ায় করোনা টিকাদান শুরু

প্রকাশ: ২৩ েব্রুয়ারি ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
টিকা নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
টিকা নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির প্রথম পর্ব পুরোদমে শুরু হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক পরিকল্পনার প্রায় ১ মাস আগেই গতকাল সোমবার থেকে প্রথম পর্বের তালিকাভুক্ত অস্ট্রেলিয়ানদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে রোববার সকালে দেশটির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেঁচে যাওয়া ৮৪ বছর বয়সী জেন মালিশিয়াক দেশটির প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টিকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে দেশটিতে টিকা গ্রহণ নিয়ে ভীতি দূর করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও প্রবীণ আরও দুজনকে এই টিকা প্রদান করা হয়।

প্রথম পর্বে ফাইজার টিকা দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে টিকার দ্বিতীয় চালান আসার পর আগামী দুই সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট। অস্ট্রেলিয়ায় টিকা প্রদান করার জন্য দেশটির বাসিন্দাদের পাঁচ পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে মোট ১৪ লাখ কোয়ারেন্টিন ও সীমান্ত কর্মী, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের দেওয়া হবে। পরে আরও দুই পর্বে স্বাস্থ্যকর্মী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসীদের দেওয়ার পর চতুর্থ পর্ব থেকে যে কেউ টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।

এর আগে জানানো হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সবাইকে বিনা মূল্যে কোভিড-১৯-এর টিকা দেবে দেশটির সরকার। সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, আগামী অক্টোবর নাগাদ দেশটির গোটা জনসংখ্যাকে বিনা মূল্যে টিকা প্রদানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত দেশটির সব নাগরিকসহ স্থায়ী-অস্থায়ী, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও সুরক্ষাপ্রার্থী সব ভিসাধারী, এমনকি কোনো ভিসায় আবেদন করে ব্রিজিং ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন—এমন সবাইকে বিনা মূল্যে টিকা দেবে দেশটির সরকার। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোকেও টিকা দিয়ে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নাগরিকদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ নিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে রয়েছেন—এমন প্রত্যেককেই বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হবে।’

চলতি মাসে ফাইজারের টিকার মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মার্চ মাস থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং পরে নোভাভ্যাক্সের টিকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ১৫ কোটি টিকার চালানের কথা থাকলেও বাড়তি আরও এক কোটি টিকা আমদানি করবে দেশটি।