দূর পরবাস

চীনে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২০, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
গত শনিবার রাইজিং স্কয়ারে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
গত শনিবার রাইজিং স্কয়ারে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত

চীনের চিয়াংশি প্রদেশের নানছাং শহরে অবস্থিত চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের থিম ছিল ‘ক্যাম্পাসে পুনর্মিলন’। উৎসবে বাংলাদেশি স্টলে এসে প্রশংসা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

গত শনিবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে বাছিয়াও গার্ডেনের উত্তর অঞ্চলের রাইজিং স্কয়ারে এই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিএইচডি গবেষক মো. ছাইয়েদুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত মরোক্কান শিক্ষার্থী ইমানে আফকির ইউনী এবং চাইনিজ শিক্ষার্থী লিয়াং চিয়ানইয়াংয়ের যৌথ উপস্থাপনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ডক্টর তং হুই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত অ্যান্ডারসন এন. মাদুবাইক, নাইজেরিয়া কনস্যুলেট জেনারেল, সাংহাই এবং কনস্যুলার শিক্ষা অফিসের পরিচালক মিস জয়নব জয় মনডু। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে চীনা, বিদেশি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে একটি বাংলাদেশি স্টলও ছিল। ওই স্টলে খিচুড়ি, পিঠা, পাকোরা, সমুচা, চিকেন রোল, পায়েস, মিষ্টি, হাঁসের মাংস ভুনাসহ অন্যান্য খাবার প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল, ফল, পাখি এবং দর্শনীয় স্থানের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশি স্টলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল জাতীয় পতাকা অঙ্কন এবং বাংলাদেশি ফ্রেমে ছবি তোলা।

বাংলাদেশি স্টলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল জাতীয় পতাকা অঙ্কন এবং বাংলাদেশি ফ্রেমে ছবি তোলা।
বাংলাদেশি স্টলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল জাতীয় পতাকা অঙ্কন এবং বাংলাদেশি ফ্রেমে ছবি তোলা।
ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডক্টর তং হুই তাঁর বক্তব্যে স্কুলের আন্তর্জাতিক ছাত্রদের কার্যক্রমের অত্যন্ত প্রশংসা করেন। যাঁরা মহামারি চলাকালে বিদ্যালয়ের সঙ্গে একে অপরকে সহায়তা করেছিলেন এবং মহামারি প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন, তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চীন সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বিনিময়ে বদ্ধপরিকর।

রাষ্ট্রদূত অ্যান্ডারসন এন. মাইদুবাইক বলেন, চীন-আফ্রিকা বন্ধুত্বের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং চীন-আফ্রিকা বিনিময় ও সহযোগিতা গভীরতর হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের অধিবেশনটি চীন-আফ্রিকান সহযোগিতা এবং উন্মুক্ততার একটি সুন্দর প্রতীক। তিনি আশা করেন যে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশেষত আফ্রিকান শিক্ষার্থীরা চীন-আফ্রিকা বন্ধুত্বের আরও বিকাশের জন্য অবদান রাখবে এবং চীনে অধ্যয়নকালে তাঁদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কঠোর অধ্যয়ন করবে।

আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি স্টল।
আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি স্টল।
ছবি: সংগৃহীত

চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মো. আকবর হোসেন একটি চীনা গানের পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণ করেন। এই আয়োজনের সহযোগিতায় ছিলেন মো. ওলিউদ্দিন, মো. মাহমুদুর রহমান, মো. হাচিবুল হক, আরিফ আহম্মেদ, ফাহিম সৈয়দ মোহাম্মদ, ফারহানা জামান, শাহরিয়ার বিন সারওয়ার, তৌহিদুল আনাম, মো. খালিদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মো. মামুন, মো. নাদিমুল আকরাম, মো. রুমন হোসেন প্রমুখ।

বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নিজ দেশের নৃতাত্ত্বিক কারুশিল্প, খেলাধুলার ক্রিয়াকলাপ এবং বিশেষ রান্নার মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি এবং স্থানীয় রীতিনীতি প্রদর্শন করেন। সাংস্কৃতিক উৎসবে স্কয়ারের উভয় পাশে বিদেশি স্টলসহ একটি চীনা সংস্কৃতি প্রদর্শনের স্টল ছিল। এ ছাড়া বাছিয়াও গার্ডেনের উত্তর অঞ্চলের রাইজিং স্কয়ারে চিত্র প্রদর্শনী করা হয়েছিল।

উৎসবে বাংলাদেশ, চীন, মরোক্কো, বেনিন, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া, গিনি, ঘানা, নামিবিয়া, লাইবেরিয়া, জিম্বাবুয়ে, কঙ্গো, ইথিওপিয়াসহ ১৪টি দেশ অংশগ্রহণ করে। এই ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে দুই হাজারের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার লোক অনলাইনে এই মনোরম সাংস্কৃতিক উৎসব উপভোগ করে।