দূর পরবাস

ব্যাংককে বাংলাদেশের বিজনেস কমিউনিটির গেট টুগেদার অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ নিঃসন্দেহে বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগের নাম। কোনো ধরনের অস্ত্র নয়, নয় কোনো ধরনের পারমাণবিক যুদ্ধ নয়, সামান্য কয়েক ন্যানোমিটারের এক ক্ষুদ্র আলোক আণুবীক্ষণিক বস্তুর কাছে গোটা পৃথিবীর মানুষ আজ অসহায়। প্রতিনিয়ত পৃথিবীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ।

থাইল্যান্ডের অর্থনীতির একটা বড় অংশ আসে ট্যুরিজম থেকে। সারা বছরই থাইল্যান্ডে ট্যুরিজম সেক্টরটি সবচেয়ে বেশি চাঙা থাকে। তবে এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন, ফলে লকডাউন কিংবা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরও অনেকে কাজে ফিরতে পারছেন না। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের অনেক কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও আমরা যারা বেঁচে আছি পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে, করোনা পরিস্থিতিতে সবার জীবনই যেন নির্জীব, নিষ্প্রভ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাউনাইন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাউনাইন
ছবি: লেখক

গুমোট এই সময়কে একটু আনন্দময় করতেই থাইল্যান্ডের বিজনেস কমিউনিটি থাইল্যান্ডে বসবাসরত সবাইকে নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক গেট টুগেদার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আল মেরাজ হোটেলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাউনাইন। উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি মিনিস্টার কনস্যুলার আহমেদ তারেক সুমিন এবং দূতাবাসের সব কর্মকর্তা। উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকক ও পাতায়ায় বসবাসরত সব ব্যবসায়ী অভিবাসী, আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের ওএআইটিতে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারবর্গ।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপরই ইশতিয়াক আহমেদের উপস্থাপনায় বাংলাদেশ বিজনেস কমিউনিটির পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ বিজনেস কমিটির প্রেসিডেন্ট আবদুল মুক্তাদির। এরপর বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত নাজমুল কাউনাইন।

আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের একাংশ
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের একাংশ
ছবি: লেখক

তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যাম্বাসির সব কর্মকর্তার পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পরিচিতির ফলে থাইল্যান্ডে বসবাসরত সব অভিবাসী যেকোনো সমস্যায় সঠিক কর্মকর্তার সাহায্য নিতে পারেন। বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডে একটি থাই-বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্স করার জন্য আহ্বান জানান।

এরপরই শুরু হয় ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্ব। এ পর্বে বেশ কিছু জনপ্রিয় দেশীয় গান পরিবেশন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠান জমকালো আয়োজনে গান গেয়ে মাতিয়ে রাখেন ব্যাংককের সবার প্রিয় নুরুন্নাহার সুমি, আবু বকর সিদ্দিক ও আরও অনেকে। থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ বিজনেস কমিউনিটির এ অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল মুক্তাদির, শাহজাদা মোহাম্মাদ আলী খান, আমিন মোহাম্মদ শোয়েব, ইশতিয়াক আহম্মেদ দুলাল, মো. আজিজুল হক, নিয়ামত আলী বাদল, তালুকদার সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ আদম আলী মীর, জহিরুল আলম, কামরুজ্জামান কামরুল, কাজী ওমর আলী ও আমিরুল ইসলাম।