স্বাস্থ্য

করোনাকালে হৃদ্‌রোগীদের ঝুঁকি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
অলংকণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী
অলংকণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী

কোভিড-১৯ সংক্রামক রোগটি আবির্ভাবের পর থেকেই আমরা এর ঝুঁকি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারছি; বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা আর হৃদ্‌রোগের জটিলতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে এই ভাইরাসের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, ঠিক তা নয়, বরং হৃদ্‌রোগী কোভিডে আক্রান্ত হলে তাঁদের পরিণতি হয় মারাত্মক। কোনো হৃদ্‌রোগী যখন কোভিডে আক্রান্ত হন, তখন তাঁর হার্টসংক্রান্ত জটিলতার তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হয়। কাজেই করোনাভাইরাসকে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এটিতে আক্রান্ত না হওয়ার জন্য যা যা সতর্কতা প্রয়োজন, সবই নিতে হবে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোভিডে আক্রান্ত রোগী যাঁদের হৃদ্‌রোগ আছে, তাঁদের হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ছয় গুণ বেশি। প্রতি তিনজন কোভিড রোগীর মধ্যে একজনের হৃদ্‌রোগ আছে বলে দেখা গেছে। ফলে এটি কোভিড রোগীদের সঙ্গে সহাবস্থানে থাকা একটি রোগ হিসাবেই বলা যায়।

প্রতীক ছবি
প্রতীক ছবি
ছবি: ক্যারোলিন গ্রাবওস্কা, পেকজেলসডটকম

কোভিডের কারণে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসপেশির প্রদাহ, হার্টে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়া ও হঠাৎ মৃত্যু বা সাডেন কার্ডিয়াক ডেথ হতে পারে।
এই ভাইরাস দুভাবে এই ক্ষতিগুলো করে থাকে। এক. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রচণ্ড দ্রুততায় খুঁচিয়ে দিয়ে একটি উচ্চমাত্রার প্রদাহ বা হাইপার ইনফ্লামেশন করা, দুই. রক্ত জমাট বাঁধাকে বাড়িয়ে তোলা। এই অতিরিক্ত রক্ত জমাট বাঁধা বা ক্লটিংয়ের প্রবণতাই কোভিড রোগীর মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

যাঁদের হার্টে স্টেন্টিং করা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও ক্লটিংয়ের এই অতিরিক্ত প্রবণতা, ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। হৃদ্‌রোগী যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় ভোগেন, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তাঁরা করোনাভাইরাসে কোনোভাবে আক্রান্ত না হন। ভিড় এড়িয়ে চলা, দূরত্ব বজায় রাখা, বারবার হাত ধোয়া, বাইরে বিশেষ করে বাজারে বা দোকানে যাওয়া কমিয়ে আনা, মাস্ক দিয়ে নাক–মুখ ঢাকা তাঁদের জন্য একান্ত আবশ্যক। একই সঙ্গে হৃদ্‌রোগীর আশপাশে যারা থাকবে, তাদেরও অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিবছরই আমরা হৃদ্‌রোগীদের ফ্লু টিকা নিতে বলি; কারণ হৃদ্‌রোগীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। এখন তো এটি আরও জরুরি হয়ে পড়েছে, যেহেতু হাসপাতালগুলোয় কোভিড রোগীরা ভিড় করছেন, এ কারণে কেউই চাইবে না ফ্লুতে আক্রান্ত হতে।

তবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সাবধানতা অবলম্বন করার মানে এই নয় যে সুস্থ হার্টের জন্য নিয়মিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো নিতে কেউ দেরি করবে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেয় দরকার; এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
ছবি: পেকজেলসডটকম

কয়েক মাস ধরেই এই মহামারি চলছে; হাসপাতালের সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এখন অনেকটাই বুঝে গেছেন রোগীদের ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো। কাজেই বাড়িতে বসে থেকে রোগ ভালো হয়ে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেহেতু হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক কারও জন্যই কাম্য নয়, কিন্তু তেমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে হাসপাতালই হবে আপনার জন্য সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান।
লেখক: কনসালট্যান্ট, কার্ডিওলজি, ইউনাইটেড হাসপাতাল