স্বাস্থ্য

শীতের দিনে গোসলে গরম পানি

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
ছবি: আরমিন রোনাল্ডি, পেকজেলসডটকম,

দিনের পর দিন গোসল না করে থাকা লোকের সংখ্যা বাড়ে শীতে। পানিকে ভয় পেয়ে কেউ কেউ ঠিকমতো মুখটাও ধুতে চান না। গরমকালে ফ্রিজের চেম্বার ভরা ঠান্ডা পানি না পেয়ে যিনি পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেন, তিনিও শীতে এড়িয়ে চলেন ঠান্ডা পানি। তবে শীতকালে যাঁরা নিয়মিত গোসল করেন, তাঁরা অনেকেই ঠান্ডার সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে নেন।

কিন্তু শীতে গরম পানিতে গোসল করা কি ঠিক? এই প্রশ্ন থাকে অনেকের মনে। ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলছেন, ‘শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলে সমস্যা নেই। তবে সেটা খুব গরম না। যারা গরম পানিতে গোসল করবে, তারা অবশ্যই কুসুম গরম পানি নেবে। বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের চামড়ার ওপর তার প্রভাব পড়বে। ত্বক হয়ে পড়বে খসখসে। তাই গোসলের পর ব্যবহার করতে হবে লোশন।’

নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে
নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে
ছবি: আন্দ্রেয়া পিয়াকাদিও, পেকজেলসডটকম

গরম পানিতে গোসলের সময় আর্দ্রতাযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক থাকবে। নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে। তাই গোসলের সময় আর্দ্রতাযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। চুল থাকবে ঝরঝরে।

ঢাকার ইগলস জিমের ফিটনেস বিশেষজ্ঞ শিমুল হাসান বলেন, শীতের দিনে দুপুরে গোসল করতে পারলে অনেকের কাছেই শীতের প্রকোপ কিছুটা কম অনুভূত হয়। এখন যাঁরা শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ঠান্ডা পানিতে গোসল না করাই ভালো। কেননা বেশি ঠান্ডা পানিতে পেশি (মাসল) সংকুচিত হয়ে যায়। শরীরচর্চার পর গরম পানিতে গোসল করে নিলে পেশি ঠিক থাকবে। অনেক পারলার বা জিমে স্টিম বাথ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়ে স্টিম বাথ দারুণ আরামদায়ক। শীতে নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। বাতাসের ধুলাবালু শরীরে লেগে থাকলেও ত্বকের ক্ষতি হয়। স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।

শীতে স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।
শীতে স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।
ছবি: এফিজি লিমা মার্কোস, পেকজেলসডটকম

শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলের আরও কিছু পরামর্শ দিলেন শিমুল হাসান:
* শরীরচর্চার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানিতে গোসল করবেন।
* গরম পানিতে গোসলে আরাম পেয়ে বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
* স্নানঘরে গিজারের সুবিধা থাকলে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে গোসল সেরে নিন।