পুষ্টি

গরমে ক্লান্তিহরা ডাবের পানি

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২১, ০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ডাবের পানি কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে
ডাবের পানি কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে
ছবি: উইকিপিডিয়া

গ্রীষ্মের দুপুরে, প্রচণ্ড গরমে শরীর যখন ক্লান্ত, তখন খুব দ্রুত প্রশান্তি এনে দিতে পারে ডাবের পানি। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি প্রাকৃতিক পানীয়। এতে কোনো কৃত্রিম রং, প্রিজারভেটিভ, ফ্লেভার—এর কিছুই থাকে না। তাই বাজারে যত কৃত্রিম পানীয় আছে, তার তুলনায় ডাবের পানি সেরা। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ডাবের পানির স্বাদ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। ভারতের ডাবের পানি যেমন বেশ মিষ্টি হয়, তেমনি বাংলাদেশের ডাবের পানি বেশ মিষ্টি ও হালকা নোনতা স্বাদের হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো দেশের ডাবের পানি পানসে হয়।

ডাবের পানি অত্যন্ত উপকারী ও জনপ্রিয় একটি পানীয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক এনজাইম ও খনিজ উপাদানে ভরপুর এ পানীয়। ১০০ মিলি ডাবের পানিতে থাকে ১৮ ক্যালরি, ৪ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১০৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ২০৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ২.৬ মিলিগ্রাম সুগার, ২.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৩ মিলিগ্রাম আয়রন ও ২৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম।

ডাবের পানির উপকারিতা

ডাবের পানি তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে প্রশান্তি দেয়
ডাবের পানি তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে প্রশান্তি দেয়
ছবি: প্রথম আলো
  • ডাবের পানি তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে প্রশান্তি দেয়। শরীরে পানির অভাব পূরণ করতে ও খনিজ পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

  • আমাদের দেহে কিছু ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল থাকে, যা বিভিন্ন কোষকে ধ্বংস করে। ডাবের পানিতে যে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, তা এই কোষ ধ্বংসকে প্রতিরোধ করে।

  • গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়, যা ইনসুলিনেরর কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা ডাবের পানি খেতে পারবেন।

  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানি কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে।

  • ডাবের পানি কোলেস্টরেলের মাত্রা কমাতে বিশেষ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

  • ডাবের পানিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ কমাতে ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ডাবের পানি খেতে পারবেন।

  • ডাবের পানিতে অ্যান্টি-থ্রমবোটিক কার্যকারিতা থাকায় এটি রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।

  • ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে, যা পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা, যেমন ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে।

  • অন্যান্য ফলের রসের তুলনায় ডাবের পানিতে কম ক্যালরি ও কম সুগার থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য যাঁরা ডায়েট করছেন, তাঁরা ডাবের পানি খেতে পারবেন।

ডাবের পানিতে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা থাকায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
ডাবের পানিতে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা থাকায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
ছবি: এনি লেনি, পেকজেলস ডট কম
  • ডাবের পানি হজমশক্তি বাড়ায়। ফলে এটি মেদ কমাতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমানোর জন্য ডাবের পানি একটি উপকারী পানীয়।

  • ডাবের পানিতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের কার্যক্রম ঠিক রাখে এবং হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • ডাবের পানিতে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা থাকায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

  • ডাবের পানিতে অ্যান্টি-এজিং প্রপার্টিস থাকে। ফলে ত্বকের দাগ ও বলিরেখা দূর করে এবং ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

সতর্কতা

কিডনি রোগী এবং যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি, তাঁরা সপ্তাহে তিন দিন এক গ্লাস করে ডাবের পানি খেতে পারেন। তবে যেদিন ডাবের পানি খাওয়া হবে, সেদিন পটাশিয়াম আছে, এমন অন্য ফল কম পরিমাণে খাওয়া ভালো।

এই গরমে একজন সুস্থ ব্যক্তি নিয়মিত এক গ্লাস ডাবের পানি পান করতে পারেন, যা তাঁকে সুস্থ ও সতেজ থাকতে সাহায্য করবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, লেকসিটি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, খিলক্ষেত, ঢাকা