ফুটবল

ড্র করেই হাঁপ ছাড়ল রিয়াল

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২০, ৫:৪১ অপরাহ্ণ

মারিয়ানোর পারফরম্যান্স দেখে একটু হতাশ হয়েছেন সিড লো। ম্যাচ শুরু হওয়ার দুই মিনিট পেরোনোর আগেই গোল করে বসলেন মারিয়ানো। তবু গার্ডিয়ানের একই ক্রীড়া সাংবাদিকের হতাশা, ‘মারিয়ানোর খেলায় ঢিল পড়েছে। আজ ১০৬ সেকেন্ড লাগল গোল করতে। বার্সেলোনার বিপক্ষে গোল করতে আরও ৩০ সেকেন্ড কম লেগেছিল ওর।’ বিদ্রূপাত্মক এ টুইট বুঝতে কারও কষ্ট হয়নি। তবু একটু পর নতুন করে আরেকটি টুইট করে নিজের মনের কথাটা জানিয়েছেন লো।

ম্যাচের দুই মিনিটে পাওয়া সে গোল অবশ্য জয় এনে দিতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদকে। ভিয়ারিয়ালের মাঠ থেকে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই ফিরতে পেরেছে রিয়াল। চোট ও করোনার ফলে ছোট হয়ে পড়া এক স্কোয়াড নিয়েও এমন ফলে হয়তো খুব একটা হতাশ হবেন না জিনেদিন জিদান। তবে শেষ দুই ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়ায় শিরোপা দৌড়ে অনেকটাই বেকায়দায় পড়ে গেল রিয়াল।

দুই মিনিটেই গোল করেছেন মারিয়ানো।
দুই মিনিটেই গোল করেছেন মারিয়ানো।
ছবি: টুইটার

টুইটে সিড লো কোন ম্যাচের কথা বলছেন মনে থাকার কথা। করোনা সব খেলা থামিয়ে দেওয়ার আগে গত মৌসুমে এল ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে এগিয়ে ছিল রিয়াল। মাত্রই বদলি নামা মারিয়ানো দিয়াজ নিজের নামের পাশে একটা গোল লিখিয়ে ফেলেছিলেন। মজার ব্যাপার, লিগে সেটাই ছিল মারিয়ানোর প্রথম মাঠে নামা। মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যে করা সে গোলেও তাঁর ভাগ্য বদলায়নি। সে গোলের পরও লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে সব মিলিয়ে মোটে ৩৯ মিনিট খেলতে পেরেছিলেন মারিয়ানো।

মারিয়ানোর মতো স্ট্রাইকার জিদানের ঠিক পছন্দ নয়। জিদানের পছন্দ বেনজেমার মতো স্ট্রাইকার, যিনি আক্রমণ গড়তেও সাহায্য করতে জানেন। তাই এ মৌসুমেও ভাগ্য মারিয়ানোর পক্ষে ছিল না। তাঁকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু কাস্তিয়ায় খেলে বেড়ে ওঠা মারিয়ানো রাজি হননি ক্লাব ছাড়তে। ফলে রিয়ালের বেঞ্চে বসেই সময় কাটাচ্ছিলেন। বেনজেমার চোটের পর লুকা ইয়োভিচের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আজ হঠাৎ ভাগ্য খুলে দিল। মাঠে নামার ১০৫ সেকেন্ডের মধ্যে ডাইভিং হেডে গোল! এরপরই সিড লোর সে টুইট।

দলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন মারিয়ানো।
দলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন মারিয়ানো।
ছবি: টুইটার

বার্সেলোনার সঙ্গে সে ম্যাচের সঙ্গে কিছু পার্থক্য আছে এবার। সেবার ম্যাচের ৯০ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন। আর এবার শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। আর সেবার ওই গোলের আগে তাঁকে লিগ ম্যাচে দেখার সৌভাগ্য হয়নি কারও। এবার অন্তত এর আগে লিগের খেলা কেমন, সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরেছিল রিয়াল। সে ম্যাচে শেষ দিকে ১৪ মিনিট দেখা গিয়েছিল তাঁকে। অর্থাৎ বার্সেলোনার বিপক্ষে গোল করার পর এক স্ট্রাইকার দ্বিতীয় গোল করলেন ৮ মাস পর। কিন্তু মাঠের খেলার হিসেবে সেটা মাত্র ৫৫ মিনিট!

আজ গোলটাও হলো স্ট্রাইকার হিসেবে মারিয়ানো ছিলেন বলে। নিজেদের অর্ধ থেকে বল উড়ে এসেছিল রাইট উইংয়ে। সেটা দারুণ দক্ষতায় নিয়েছিলেন মাত্রই চোট থেকে ফেরা দানি কারভাহাল। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল আবার তাঁর পায়ের কাছে যেতেই মাপা এক ক্রস করলেন। সে বল ডি-বক্সে নিজের নাগালের একটু বাইরে দেখেই ডাইভ দিয়ে হেড করলেন মারিয়ানো। ২ মিনিট হওয়ার আগেই এগিয়ে গেল রিয়াল। এরপরই জানা গেল মজার এক তথ্য। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যেদিন সর্বশেষ একাদশে খেলেছিলেন, সেদিনও প্রতিপক্ষ হিসেবে ভিয়ারিয়ালকে পেয়েছিলেন। আর সে ম্যাচে মারিয়ানোর গোল পেতে লেগেছিল ৮৩ সেকেন্ড। আর বার্সেলোনার বিপক্ষে তাঁর গোলটি ছিল নামার ৫২ সেকেন্ডের মাথায়!

করোনা থেকে  সুস্থ হয়েই মাঠে ফিরেছেন হ্যাজার্ড।
করোনা থেকে সুস্থ হয়েই মাঠে ফিরেছেন হ্যাজার্ড।
ছবি: টুইটার

এমন দুর্দান্তভাবে শুরু হওয়া ম্যাচটা অবশ্য একটু পরই প্রাণ হারিয়েছে। দুই দলই বলের দখল নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর গুছিয়ে আক্রমণ করতে চাওয়ায় খেলাটি ধীর হয়ে যায়। দুই দলই গুছিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে বটে, কিন্তু গোল হওয়ার মতো নিশ্চিত কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি আর। রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়ার ছোটখাটো একটা সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন কারভাহাল। কিন্তু হাতছাড়া করেছেন সেই সুযোগ। ওদিকে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছেন ভিয়ারিয়ালের পারেহোর।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রাধান্য ছিল ভিয়ারিয়ালের। ৫০ মিনিটে লুকাস ভাসকেজ রিয়ালের লিড বাড়ানোর সুযোগ মিস করার পর থেকেই দাপট ভিয়ারিয়ালের। ৫৭ মিনিটে কোর্তোয়াকে ফাঁকিও দিয়েছিলেন মরেনো। কিন্তু সে বল বারের পাস দিয়ে চলে গেছে। ৭০ মিনিটে পারেহোও নষ্ট করেছেন সুযোগ। কিন্তু ৭৪ মিনিটে হতাশা ভুলেছে ভিয়ারিয়াল। চুকুউজেকে থামাতে গিয়ে বক্সে ফেলে দেন কোর্তোয়া। আর পাওয়া পেনাল্টি থেকে ভিয়ারিয়ালকে সমতায় ফেরান জেরার্দ মরেনো।

এরপর বহু চেষ্টাতেও স্কোরলাইন বদলাতে সক্ষম হয়নি দুই দল। আক্রমণের ধারটা ভিয়ারিয়ালেরই বেশি ছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরার স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল।