ভারত

সমস্যা সৃষ্টি করিনি, বোঝা হয়ে উঠিনি, অপেক্ষা আর কত

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, করোনাভাইরাসের মহামারির বিরুদ্ধে বিশ্বকে আট–নয় মাস ধরে লড়তে হচ্ছে। এই যুদ্ধে জাতিসংঘ কোথায়? টিকা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারতকে সর্ববৃহৎ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে পুরো মানবতার জন্য ভারতের টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে এই প্রশ্ন তোলেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সংস্কারেরও আহ্বান জানান। এদিন তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও তোলেন।

১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৫ সালের তুলনায় বিশ্ব অনেক বদলে গেছে। সে সময়ের তুলনায় এখনকার সমস্যা ও সমাধান পুরোপুরি ভিন্ন। আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎও ভিন্ন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন একটি প্রশ্নের মুখোমুখি। আর তা হলো, ১৯৪৫ সালের জাতিসংঘ কি এখনো প্রাসঙ্গিক?’

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে পেরেছি। কিন্তু এই সময়ে অনেক যুদ্ধ হয়েছে, গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছে। সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। রক্ত ঝরেছে। যারা মারা পড়েছে, তারা আপনার–আমার মতোই মানুষ। অকালে ঝরে পড়েছে অনেক শিশু–কিশোরের প্রাণ।’

নরেন্দ্র মোদি বলেন, জাতিসংঘের সংস্কার প্রয়োজন এবং ভারত সে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। এ সময় জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সর্বোচ্চ ফোরাম নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি তোলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যখন দুর্বল ছিলাম, আমরা সমস্যা সৃষ্টি করিনি। যখন দৃঢ় হলাম, বিশ্বের বোঝা হয়ে উঠিনি। তারপরও আমাদের আর কত অপেক্ষা করতে হবে? জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ভারত সেনাসদস্য পাঠিয়েছে এবং এসব মিশনে ভারতের সেনাসদস্যরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় প্রাণ দিয়েছেন।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের আদর্শ ও ভারতের নীতি একই। ১৩০ কোটি ভারতীয় জাতিসংঘের সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। এই দেশগুলোর প্রতিটিরই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ভারত অবশ্য এই পরিষদে সাত দফায় অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ছিল। সর্বশেষ গত জুনে দেশটি আবারও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। এই মেয়াদের শুরু ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।