যুক্তরাষ্ট্র

টিকার জরুরি অনুমোদন পেতে আবেদন করেছে ফাইজার ও বায়ো এন টেক

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২০, ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
ফাইজারের টিকা নিচ্ছেন এক ব্যক্তি
ফাইজারের টিকা নিচ্ছেন এক ব্যক্তি
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকার জরুরি অনুমোদন পেতে আবেদন করেছে ফাইজার ও এর সহযোগী বায়ো এন টেক। টিকাটি যথেষ্ট নিরাপদ কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি এখন নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) ওপর।

বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইজারের টিকাটির তথ্য বিশ্লেষণ করতে এফডিএর কত দিন লাগবে, বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই টিকাটির অনুমোদন দেওয়ার প্রত্যাশার কথা বলেছে।

এই টিকা প্রস্তুতকারকদের দাবি, চূড়ান্ত পরীক্ষায় জানা গেছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে টিকাটি ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।  

যুক্তরাজ্য সরকার ৪ কোটি ডোজ টিকার আগাম ফরমাশ দিয়ে রেখেছে এবং এ বছরের মধ্যেই ১ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার আশা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জুন মাসের পর থেকে গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যার রেকর্ড হয়েছে। ওই দিন ২ হাজারের বেশি মানুষ করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বিশ্বে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩১। একই সময়ে বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ১৩ লাখ ৭১ হাজার ২৪১ জন।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৮ হাজার ৩৯৫। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৩ জন।

ফাইজার ও বায়ো এন টেকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যদি এফডিএর কাছ থেকে তারা আগামী মাসের প্রথমার্ধেই টিকার জরুরি অনুমোদন পায়, তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তা সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

ভাইরাসের জেনেটিক কোড উন্মোচনের পর মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই টিকা তৈরির ঘটনাটি অতি দ্রুত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে টিকার অনুমোদন পেতে আট বছর লেগে যায়।

ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালবার্ট বোরলা গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়ার বিষয়টি আমাদের যাত্রার মাইলফলক।’

টিকার অনুমোদন পেলেও প্রাথমিক অবস্থায় ডোজের স্বল্পতা থাকবে। টিকা কারা আগে পাবেন, তা সিদ্ধান্ত নেবে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসিপি)।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। এ বছরের শেষ নাগাদ টিকার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

ফাইজার বলছে, তাদের সর্বশেষ ধাপের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই টিকা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাধারণদের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ কার্যকর।

জার্মান জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা বায়ো এন টেককে সহযোগী করে মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) পদ্ধতিতে এ ভ্যাকসিন তৈরি করছে ফাইজার। তবে বোরলা স্বীকার করেছেন, এর আগে কখনো কোনো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এমআরএনএভিত্তিক ভ্যাকসিন অনুমোদন পায়নি।

গত জুলাই মাসে ফাইজার তাদের টিকার প্রাথমিক ধাপের ইতিবাচক ফল জানিয়ে দাবি করে, এটি স্বাস্থ্যবান মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। তবে এটি বেশি মাত্রায় দেওয়া হলে জ্বরসহ অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ফাইজারের তৈরি টিকার প্রথম ক্লিনিক্যাল তথ্য ‘মেডআরএক্সআইভি’ সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়। ইতিবাচক ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বার্ষিক টিকা ডোজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১০ কোটি করেছে।